বিএনডেক্সঃ নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ৩ কেজি ৭শ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছ ১০ হাজার ৯শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চেয়ারম্যানঘাট মাছঘাটে শাহজাহান ব্যাপারীর আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছটি বিক্রি হয়।
নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে স্থানীয় বিষু ব্যাপারী ইলিশটি কিনে নেন। বড় আকারের এই ইলিশটি কিনতে নিলামে অন্তত ১৭ জন ব্যবসায়ী অংশ নেন।
জানা গেছে, হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের জেলে জাহেদ মাঝির জালে ইলিশটি ধরা পড়ে। রোববার সকালে ১২ জন জেলেকে সঙ্গে নিয়ে সাঙ্গু গ্যাসফিল্ডের কাছাকাছি নদীতে মাছ ধরতে যান তিনি। সোমবার রাতে নদীতে জাল ফেলেন। মঙ্গলবার জাল তুলতে গিয়ে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই ইলিশটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি চেয়ারম্যানঘাট মাছঘাটে এনে শাহজাহান ব্যাপারীর আড়তে বিক্রির জন্য তোলা হয়।
ইলিশটির ক্রেতা বিষু ব্যাপারী বলেন, “আমি ১০ হাজার ৯০০ টাকায় ইলিশটি কিনেছি। মাছটি ঢাকার মোকামে পাঠাব। সেখানে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব। রাজধানীতে বড় আকারের ইলিশের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।
জেলে জাহেদ মাঝি বলেন, বড় ইলিশটি পাওয়ার পর আমরা খুব খুশি হয়েছি। মাছটি ছাড়াও আরও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেছি। সব মিলিয়ে চেয়ারম্যানঘাট মাছঘাটে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি।
আড়তদার শাহজাহান ব্যাপারী বলেন, “জাহেদ মাঝি সাগর থেকে বড় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে আমার আড়তে আসেন। এর মধ্যে ৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটির নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা বিষু ব্যাপারীর কাছে মাছটি বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, “এবার ইলিশ তুলনামূলক কম পাওয়ায় জেলেরা হতাশ। তবে মাঝেমধ্যে বড় আকারের কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে। বড় ইলিশ দেখে ভালো লাগছে। যদিও দাম বেশি অনেকেই তা কিনতে পারছেন না।
হাতিয়া উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান বলেন, “এবার তুলনামূলকভাবে কম মাছ ধরা পড়ছে। এর মধ্যে দু-একটি বড় ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। আশা করছি, ভরা পূর্ণিমায় আরও বেশি মাছ ধরা পড়বে।”
স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদী ও সাগরে ইলিশের বিচরণ বাড়লে আগামী দিনে বড় আকারের ইলিশসহ অন্যান্য মাছের সরবরাহও বাড়বে। এতে জেলেদের আয় বাড়ার পাশাপাশি মাছের বাজারেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।













